গাড়ল পালন

ভেড়া/গাড়ল পালন

বাংলাদেশে মোট ১.৬৯ মিলিয়ন ভেড়া আছে। জাতীয় আয় ও সং খ্যার দিক থেকে বাংলাদেশে পশুসম্পদের মধ্য ভেড়ার স্থান চতুর্থ। এ দেশে প্রাপ্ত ভেড়া উষ্ম ও আদ্র পরিবেশে খাপ খাইয়ে বছরে দুইবার বাচ্চা দেয় এবং প্রতিবারে ২-৩ টি বাচ্চা দেয়। এদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশী ও বাচ্চার মৃত্যুর হার অত্যন্ত কম। চরম অবহেলিত অবস্থায় শুকনা খড় এবং শস্যর অবশিষ্ট অংশ খেয়েও একটি প্রাপ্ত বয়স্ক ভেড়া ১৫-২০ কেজি হতে পারে। একটি ভেড়া ১.৫-২.০ কেজি পরিমাণ পশম উৎপাদন করে। ভেড়া উৎপাদন বৃদ্ধির হার ১২%, যাহা গরু, ছাগল ও মহিষের তুলনায় অনেক বেশী। বাংলাদেশে ভেড়ার ঘনত্ব বরেন্দ্র এলাকা, যমুনা অববাহিকা এবং উপকুলীয় এলাকার জেলাগুলোতে বেশী। আংশিক অথবা সম্পূর্ণ আবদ্ধ আবস্থায় ভেড়া পালন করা য়ায়, সেক্ষেএে প্রতিটি প্রাপ্ত বয়স্ক ভেড়ার জন্য ৮-৯ বর্গফুট জায়গার প্রয়োজন হয়। ভেড়ার চালা, চন,টিন অথবা পাকা যে কোনটিই হতে পারে। দুই থেকে তিন বাচ্চা বিশিষ্ট ১ টি ভেড়ীর দৈনিক ২.৫ থেকে ৩.০ কেজি কাঁচা ঘাস, ২৫০-৩০০ গ্রাম দানাদার খাবারের প্রয়োজন হয়। একটি প্রাপ্ত বয়স্ক পাঁঠার দৈনিক ২.৫ – ৩.০ কেজি কাঁচা ঘাস ও ২০০-২৫০ গ্রাম দানাদার খাবার প্রয়োজন পড়ে। ভেড়ার দানাদার খাদ্য হিসেবে: চাল, গম, ভুট্টা ভাংগা, চালের কুঁড়া, গমের ভুসি, মাস কলাই / খেসারী /মুসুর/মুগ কলাই/তিলের খৈল/নারিকেল খৈল ও লবণ ইত্যাদি ব্যবহৃত হয়। জন্মের সময় ভেড়ার ওজন ১.০-১.৫০ কেজি হয়ে থাকে। বাচ্চা জন্মের পর পরই আধ ঘণ্টার মধ্য শাল দুধ খাওয়ানো হয়। ভেড়ার বাচ্চার দৈনিক ২০০-২৫০ গ্রাম পানির প্রয়োজন হয়। বাচ্চা সাধারণত ২-৩ মাসের মধ্যই মায়ের দুধ ছাড়ে। ভেড়ার পাঁঠা বাচ্চাকে ২-৪ সপ্তাহের মধ্য অন্ডকোষ কেটে খাসী করা প্রয়োজন। বাড়ন্ত ভেড়ীকে সাধারণত ১৩-১৪ কেজি ওজনে ৭-৮ মাস বয়সে পাল দিতে হবে। ভেড়ী ২০-৩৬ ঘন্টা গরমে থাকে কিন্তু ১২-১৪ ঘন্টার মধ্যই ইহাকে পাল দেয়া প্রয়োজন। ভেড়ী সকালে গরম হলে বিকালে আর বিকালে গরম হলে সাকালে পাল দিতে হবে। সম্ভব হলে দুইবার পাল দেয়া বেশী কার্যকরী।বাচ্চা দেয়ার পর ভেড়ী ২১-৪৮ দিনে গরম হয়। ভেরীর পাল নিশ্চিন্ত হওয়ার পর বাচ্চা সাধারণত ১৪০-১৫০ দিন পেটে থাকে। এ দেশীয় ভেড়াতে কৃমি, আমাশয়, বসন্ত, নিউমোনিয়া, এন্টারটক্ক্সিমিয়া, পেট ফাঁপা ও ক্ষুরা ইত্যাদি রোগ দেখা যাই। প্রতি ৬ মাস পর পর ভেরাকে কৃমি নাশক ঔষধ খাওয়ানো দরকার। উকুন, আঠালী, মায়াসিস ইত্যাদির আক্রমণ থেকে ভেরাকে রক্ষার জন্য প্রতি ১৫ দিন পর পর ০.৫% মেলাথিয়ন দ্রবণে গোসল করানো প্রয়োজন। বছরে ২ বার পি পি আর ও একথাইমা রোগ নাই বললেই চলে। ভেড়ার মাংস নরম, রসালো ও বিশেষ কোন গন্ধ নেইএবং ইহার চামড়া বাজাবে বিক্রি করা য়ায়। ভেড়া ভুমিহিন, ক্ষুদ্রও মাঝারী চাষিদের অতিরতক্ত আয়ের উৎস। ৩০ টি ভেড়ার খামার থেকে বছরে ৩০,০০০/- থেকে ৫০,০০০/- টাকা পর্যন্ত আয় হয়। বাংলাদেশে অন্যান্য প্রাণীর তুলনায় ভেড়া পালন খুবই লাভজনক।টাকার অংকটা সমিকরণ মাত্র।

গাড়লের পরিচিতিঃ

হুবহু ভেড়ার মতো দেখতে হলেও গাড়ল ও ভেড়ার মধ্যে রয়েছে বিস্তর পার্থক্য। গাড়লের লেজ ও কান ভেড়ার চেয়ে কয়েক গুণ বড়। আকারেও বড় গাড়ল।

·          পূর্ণবয়স্ক একটি ভেড়া থেকে ১৭ থেকে ২৫ কেজি পর্যন্ত মাংস পাওয়া যায়। কিন্তু পূর্ণবয়স্ক একটি গাড়লের ৩০ থেকে ৪০ কেজি মাংস হয়।

·         এমনকি , পূর্ণ বয়স্ক একটি পুরুষ গরল থেকে ৬৫ কেজির ও অধিক মাংস পাওয়া যায়।

·         গাড়লের মাংসের পুষ্টিগুণ খাসির থেকেও বেশি

·         আর যেকোনো প্রাণীর মাংস অপেক্ষা গাড়লের মাংসের স্বাদও ভালো। তবে দাম চড়া।

·         গাড়লের খাবার তালিকায় কোনো ‘না’ নেই।

·         গাড়লের তেমন রোগবালাই নেই। তবে মৌসুম বুঝে বিভিন্ন রকম টিকা প্রয়োগ করলেই চলে।

·         গাড়ল বছরে দুবার বাচ্চা দেয়।

·         গাড়লের মাংস অত্যন্ত পুষ্টিকর এবং সুস্বাদু।

·         এক কথায়, গাড়ল পালন খুব লাভজনক।

 male garol vera - Sheep-Goat Seller & Buyer-গাড়ল ভেড়া ...

কেন গাড়ল পালন করবেন :

গরু - ছাগলের তুলনায় গাড়ল পালনে ঝামেলা কম কিন্তু আয়ের সুযোগ বেশি।এদের পালন ও খাদ্য ব্যবস্থাপনা সহজ , রোগ ব্যাধিও কম হয়ে থাকে। গাড়ল পালনের বিশেষ দিক গুলো তুলে ধরা হলো :-

১. গাড়ল শান্ত ও ছোট প্রাণী বলে এদের খাদ্য ও আবাস জনিত বিনিয়োগ এবং ঝুকি কম।

২. গাড়ল থেকে মাংস, পশম ও জৈব সার উত্পাদিত হয়।

৩. গাড়ল গরু - ছাগলের সাথে মিশ্রভাবে পালন করা যায়।

৪. একটি গাড়ল বছরে সাধারনত দুবার বাচ্চা দেয় , এবং প্রতিবারে একাধিক বাচ্চা দেয়।

৫. গাড়লের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অন্যান্য পশুর চেয়ে অনেক বেশি।

৬.গাড়ল ভূমিহীন , ক্ষুদ্র ও মাঝারি চাষীদের আয়ের উত্স হতে পারে।

৭. গাড়ল পতিত জমির ঘাস , ঝরা পাতা , আগাছা , খড় ও ফসলের উচ্ছিস্ট খেয়ে বেচে থাকতে পারে।

৮. গাড়লের মাংস তুলনামূলকভাবে নরম , রসালো ও স্বুসাদু।

৯. বিভিন্ন আবহাওয়ায় নিজেদের খাপ খাইয়ে চলতে পারে।

 

গাড়ল ও ছাগল পালনে তুলনামূলক সুবিধা - অসুবিধা

১. গাড়লের মৃত্যু হার কম , ছাগলের বেশি।

২. গাড়লের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা ছাগলের চেয়ে অনেক বেশি।

৩. বাংলাদেশের আবহাওয়ায় গাড়ল পি.পি.আর. রোগে কম আক্রান্ত হয়।

বাংলাদেশের আবহাওয়ায় ছাগল পি.পি.আর. রোগে বেশি আক্রান্ত হয়।

৪. গাড়লের বাচ্চা উত্পাদন বেশি, ঘন ঘন বাচ্চা দিলেও স্বাস্থ্য ভেঙ্গে পরেনা।

৫. গাড়লের খাদ্য সরবরাহ করা খুব সহজ , অন্যদিকে ছাগল বেছে বেছে খাবার খায় বলে খাদ্য সরবরাহ তুলনামূলকভাবে কঠিন।

৬. গাড়ল শীত ও বৃষ্টিতে অধিক সহনশীল ,

ছাগল শীত ও বৃষ্টিতে কম সহনশীল ।

৭. গাড়ল আবদ্ধ অবস্থায় ও চরে বেরিয়ে খাবার খায় ,ছাগল চরে বেরিয়ে খাবার খেতে পছন্দ করে।

৮. গাড়ল দলবদ্ধ ভাবে থাকতে পছন্দ করে বলে সহজে পরিচালনা করা যায় এবং অল্প জায়গায় বেশি সংখ্যক পালন করা যায়। অন্যদিকে ছাগল বিচ্ছিন্ন ভাবে থাকতে পছন্দ করে বলে ব্যবস্থাপনা কঠিন এবং সংখ্যক পালন করা যায়।

 

পালনের জন্য গাড়ল নির্বাচন :

পালনের জন্য গাড়ল নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ন ধাপ। খামারের লাভ অনেকাংশে নির্ভর করে উচ্চ উত্পাদন শীল জাতের সুস্থ সবল গাড়ল নির্বাচনের উপর ।পালনের জন্য ৬ থেকে ১২ মাস বয়সের সুস্থ গাড়ল নির্বাচন করা উচিত।

 

সুস্থ গাড়ল চেনার উপায় :

১. চোখ , নাক , মুখ উজ্জল ও পরিস্কার হবে।

২.লোম ও চামড়া মসৃন ও পরিস্কার থাকবে।

৩.মুখের উপরে মাজেলে ( কালো জায়গায় ) বিন্দু বিন্দু ঘাম দেখা যাবে।

৪. ঠিকমত জাবর কাটবে।

৫.চলাফেরা স্বাভাবিক থাকবে।

৬. কান ও লেজ নাড়াচাড়া করবে।

৭. খাবারের প্রতি আগ্রহ থাকবে।

৮. শ্বাস প্রশ্বাস স্বাভাবিক থাকবে।

৯. প্রস্রাব পায়খানা স্বাভাবিক হবে।

১০.কোনো অচেনা লোক কাছে আসলে সতর্ক হয়ে উঠবে।

১১. মশা মাছি তাড়াবে।

১২. দলবদ্ধ ভাবে মাঠে চড়বে ।

 

গাড়ল পালনে করনীয় বিষয় :

১. প্রতিদিন নির্ধারিত সময়ে খাবার দিতে হবে।

২. বাসস্থান নিয়মিত পরিস্কার করতে হবে ও শুস্ক রাখতে হবে।

৩.মলমূত্র এবং ঘর সংলগ্ন ড্রেন বা নালা নিয়মিত পরিস্কার করতে হবে।

৪. নিয়মিত গোসল করানো ভালো।

৫. তিন মাস অন্তর অন্তর কৃমিনাশক খাওয়াতে হবে।

৬. নিয়মিত টিকা প্রদান করতে হবে ( পি.পি.আর , এফ. এম. ডি ইত্যাদি )

 

গাড়লের বাসস্থান ও খাদ্য :

গাড়ল পালনের জন্য সঠিক বাসস্থান একটি অতীব গুরুত্ব পূর্ণ বিষয়।

এটার উপর লাভক্ষতি , উত্পাদন , গাড়লের পরিচর্যা , রোগাক্রান্ত হওয়ার হার ইত্যাদি নির্ভর করে। আমাদের দেশের আবহাওয়ায় গাড়লের বাসস্থানের জন্য খোলামেলা ও উচু স্থান নির্বাচন করা উচিত । রোদ-বৃষ্টি - ঝড় ইত্যাদির হাত থেকে রক্ষা করা , বিশ্রাম , খাদ্য প্রদান , সঠিক প্রজনন নিশ্চিতকরণ , মলমূত্রের সুষ্ঠ নিস্কাসনের ব্যবসস্থা ইত্যাদি বন্দোবস্ত করে গাড়লের জন্য ঘর তৈরী করতে হবে।

·         ঘরে মাচার উপর গাড়ল থাকার ব্যবস্থা করতে হবে

·         মাচা তৈরী সম্ভব না হলে , মেঝেতে শুকনো খড়ের বিছানা দিতে হবে।

·         শীতকালে মাচাতেও খড়ের বিছানা দিতে হবে। বিশেষকরে বাচ্চা কে শীতের প্রকোপ থেকে রক্ষা করতে হবে,

·         ভেজা খর শুকিয়ে পুনরায় ব্যবহার করা যায়।

 

গাড়লের জন্য আদর্শ বাসস্থানের বৈশিষ্ট :

১.গাড়লের ঘর উচু ও খোলামেলা জায়গায় হতে হবে।

২.পানি নিস্কাসনের উপযুক্ত ব্যবস্থা থাকতে হবে।

৩.আরামদায়ক হতে হবে।

৪.ঘরের দক্ষিণ ও পূর্ব দিক হতে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা থাকতে হবে।

৫.বর্জ্য নিস্কাসনের উপযুক্ত ব্যবস্থা থাকবে।

৬.সহজলভ্য ও সস্তা নির্মান সামগ্রী ব্যবহার করতে হবে।

৭.ঘরের মাঝে বেড়া বা পার্টিশন দিয়ে গর্ভবতী গাড়ল বা ছোট বাচ্চা কে আলাদা রাখার ব্যবস্থা থাকবে। যাতে করে প্রসব পূর্ব ও প্রসব পরবর্তী যত্ন ও সেবা দেয়া যায়।

 

গাড়লের খাবার :

১. গাড়ল চরে খেতে পছন্দ করে তবে আবদ্ধ অবস্থায় ও বেড়ে থেকে খাদ্য এনে পালন করা যায়।

২. ছাগলের মতোই লতা ও গুল্ম জাতীয় গাছের পাতা খুব পছন্দ করে।

৩. শুকনো ও সংরক্ষিত ঘাস ও দানাদার খাদ্য খেয়ে থাকে।

৪. এমনকি খাদ্যের অভাব দেখা দিলে গাড়ল খড় ও নাড়া খেয়ে থাকতে পারে।

 

পাঠা গাড়লের খাদ্য :

১. পাঠা গাড়ল কে পর্যাপ্ত পরিমান কাচা ঘাস দিতে হবে।

২. একটি প্রাপ্ত বয়স্ক পাঠাকে দৈনিক ৩০০ থেকে ৫০০ গ্রাম আমিষ সমৃদ্ধ দানাদার খাদ্য দিতে হবে।

৩. প্রজননের জন্য ব্যবহৃত পাঠাকে দৈনিক ১০ গ্রাম অঙ্কুরিত ছোলা দিলে ভালো ফল পাওয়া যায়।

৪. কাচা ঘাসের পরিমান কম হলে বছরে অন্তত ২ বার ভিটামিন এ.ডি.ই. ইনজেকশন ২ থেকে ৩ মি.লি. করে দিতে হবে।

৫. পাঠাকে অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাদ্য দেয়া যাবে না।

বাড়ন্ত গাড়লের জন্য একটি আদর্শ খাদ্য তালিকা নিচে দেয়া হলো ----

গাড়লের ওজন (কেজি)-দানাদার খাদ্য(গ্রাম)--ঘাস সরবরাহ(কেজি)

৪ কেজি ওজনের জন্য-------১০০ গ্রাম-------------------০৫ কেজি

৬------------------------------১৫০-------------------------০.৮

৮------------------------------২০০-------------------------১.০

১০-----------------------------২৫০------------------------১.৫- ২.০

১২-----------------------------৩০০------------------------২.০- ২.৫

১৪-----------------------------৩৫০------------------------২.৫ - ৩.০

১৬-----------------------------৪০০------------------------৩.০- ৩.৫

১৮ কেজি বা তার উপরে------৪৫০------------------------৩.৫- ৪.০

 

গাড়ল পালন ব্যবস্থাপনা :

আমাদের দেশে চারণভূমি , খামারির সামর্থ্য, খামারের ধরন ও অন্যন্য সুবিধা অনুযায়ী বিভিন্ন ভাবে গাড়ল পালন করা যায়। যেমন -

১. অধানিবিড় (সেমি ইনসেনটিভ ) খামার : এ ধরনের খামারে , খামারিগণ এককভাবে বা গরু-ছাগলের সাথে মিশ্রভাবে অল্প সখ্যক গাড়ল পালন করেন। রাতে আলাদা ঘরে বা গরুর সঙ্গে রাখা হয়। দিনে ফসলের খালি মাঠ। রাস্তা বা বাধের ধারে, গাছের বাগানের মধ্যে ছেড়ে বা বেধে পালন করা হয়। সকালে বা সন্ধ্যায় কখনো কখনো সামান্য কুড়া, ভুষিও ভাতের মাড় দেয়া হয়।

২. সম্পুর্ন ছেড়ে পালা ক্ষুদ্র বানিজ্যিক খামার : এ ধরনের খামার অধানিবিড় খামারের মতোই, তবে এ রকমের খামারে গাড়লের সংখ্যা বেশি থাকে। খামারি মূলত বানিজ্যিক উদ্দেশ্যে গরল পালন করে থাকেন। এ ধরনের খামারে সাধারনত সুনির্দিস্ট কোনো খাদ্য ব্যবস্থাপনা নেই। সাধারনত চরানোর মাধ্যমেই গাড়লের খাদ্য চাহিদা মেটানো হয়।

৩.অধানিবিড় বানিজ্যিক খামার: অপেক্ষাকৃত সচ্ছল খামারিগণ অধানিবিড় বানিজ্যিক খামারে ১০০ থেকে ১৫০ গাড়ল পালন করেন এবং প্রয়োজনীয় খাদ্য সরবরাহ করা হয় আবার মাঠেও চরানো হয়।

৪. নিবিড় পালন ব্যবস্থা : এ ধরনের খামার ব্যবস্থায় সম্পূর্ণ বদ্ধভাবে গাড়ল পালন করা হয়। এক্ষেত্রে খামারিদের ঘাস চাষ করতে হয় , ঘাস কেটে আনতে হয় ও অন্যান্য খাদ্যের ব্যবস্থা করতে হয়।  এ ধরনের খামারে যথাযথ আবাসন ব্যবস্থা , পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা ,সুষ্ঠ খাদ্য ব্যবস্থাপনা একান্ত জরুরি।

 

গাড়লের প্রজনন ব্যবস্থাপনা

১. গাড়ল সাধারনত ১৮০ দিন বয়সের মধ্যে প্রথম বাচ্চা ধারণ করে।

২. গাড়লের হৃতুচক্র ১৩-১৯ দিন বা গড়ে ১৭ দিনে সম্পন্ন হয়।

৩. গাড়লের গরমকাল বা হিট প্রিয়ড ২৪ থেকে ৩৬ ঘন্টা পর্যন্তু স্থায়ী হয়।

৪. গর্ভধারণ কাল ১৪৫ থেকে ১৫০ দিন।

 

গরম হওয়ার লক্ষণ :------

আমাদের দেশে সামাজিক দৃষ্টি ভঙ্গির জন্য অনেকেই ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও ছাগলের খামার করতে পারেননা, শুধুমাত্র পাঠা পালনগত কিছু অসুবিধার জন্য। যেমন , পাঠার শরীরের দুর্গন্ধ, শ্রুতিকটু শব্দ ,পরিচর্যাগত সমস্যা ইত্যাদি। অন্যদিকে , ছাগল গরম হলেও কয়েকদিন পর্যন্তু প্রচুর ডাকাডাকি করতে থাকে উচ্চস্বরে।

একটি বানিজ্যিক খামারে অসংখ্য ছাগল/গাড়ল যদি অনবরত ডাকাডাকি করতে থাকে তাহলে সেটা সত্যি বিরক্তিকর হয়ে দাড়ায়।

কিন্তু গাড়লের একটি বিশেষ দিক হলো , গরম হলে গরু ছাগলের মত এতো ডাকাডাকি করে না। পাঠা গাড়লের শরীরেও দুর্গন্ধ হয়না।পাঠা গাড়ল কে একই দলের সাথে ছাড়া অবস্থায় রাখা যায়। অধিক সংখ্যক গাড়লের মধ্যেও পাঠা গাড়ল শুধুমাত্র গরম হওয়া গাড়লটির প্রতিই আকৃষ্ট হবে , তাই এজন্য খামারীকে আলাদা কোনো ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন হয়না।

কিন্তু যদি পাঠা গাড়ল বেধে বা আলাদা পালন করা হয় , তাহলে প্রজনন করানোর নিয়ম : গরম হওয়ার ১২ থেকে ১৮ ঘন্টার মধ্যে প্রজনন করাতে হবে। কোনো গাড়ল রাতে গরম হয়েছে মনে করলে , পরদিন সকালে একবার এবং আরো নিশ্চিত হবার জন্য ঐ দিন বিকালে একবার ও পরদিন সকালে আরো একবার প্রজনন করানো ভালো। এ নিয়ম মেনে চললে , গাড়লের প্রজনন ব্যবস্থাপনার ত্রুটি কমানো সম্ভব এবং গর্ভধারণের সম্ভবনা ও অনেক বেশি থাকে।

 

গর্ভবতী গাড়লের পরিচর্যা :

১.গর্ভাবস্থার প্রথম পর্যায়ে গাড়ল কে কোনো কৃমিনাশক খাওয়ানো যাবেনা।

২. গর্ভাবস্থার শেষ পর্যায়ে গাড়ল কে নরম বিছানা দিতে হবে।

৩. গর্ভবতী গাড়ল কে আলাদা রাখতে হবে।

৪. গর্ভবতী গাড়ল কে পর্যাপ্ত পরিমানে ভিটামিন ও খনিজ সমৃদ্ধ খাদ্য প্রদান করতে হবে। গমের ভুষি, কাচা ঘাস , তিলের খৈল , ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন প্রিমিক্স।

 

বাচ্চার পরিচর্যা ও যত্ন :

বাচ্চা প্রসবের সময় গাড়ল কে শুকনো , পরিচ্ছন্ন ও আলোবাতাস চলাচল করে এমন স্থানে রাখতে হবে। বাচ্চার শরীর যাতে মা - গাড়ল চেটে পরিস্কার করতে পারে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। এতে বাচ্চার শ্বাস প্রশ্বাস দ্রুত চালুর জন্য সহায়ক হয়। মা যদি দুর্বলতা বা অন্য কোনো কারণে বাচ্চার শরীর চাটতে না পারে, তাহলে পরিস্কার নরম সুতি কাপড় দিয়ে বাচ্চার নাক-মুখ মুছিয়ে দিতে হবে। না হলে শ্বাস রুদ্ধ হবার ঝুকি থাকে। আর যদি এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েই যায় , সেক্ষেত্রে বাচ্চার বুকের পাজরে আস্তে আস্তে কিছুক্ষণ পর পর চাপ প্রয়োগ করলে শ্বাস প্রশ্বাস স্বাভাবিক হয়ে আসবে। প্রয়োজনে নাকে-মুখে ফু দিয়ে বাতাস ঢুকিয়ে কৃত্তিম শ্বাস প্রশ্বাসের ব্যবস্থা করতে হবে। বাচ্চার জন্মের পর গোসল করানো যাবেনা , এতে বাচ্চার ঠান্ডা লেগে নিউমোনিয়া হতে পারে।

আমাদের দেশে উষ্ণ ও আদ্র আবহাওয়ার কারণে অনেক সময় বাচ্চার জন্মের পরেই শ্বাস কস্ট দেখা যায়। এসব ক্ষেত্রে বাচ্চাকে শুকনো জায়গায় , বিশেষ করে বাতাস চলাচল করে এমন জায়গায় রাখতে হবে।জন্মের পরে অবশ্যই বাচ্চার নাক , মুখ , পায়খানা - প্রস্রাবের রাস্তা ও নাভির স্থানে ফোলা আছে কিনা পরীক্ষা করে দেখতে হবে। এগুলোর কোনো একটিতে ত্রুটি দেখা গেলে, অতিসত্তর নিকটস্থ পশুহাপাতালে / ভেটেরিনারি সার্জনের পরামর্শমতো চিকিত্সা দিতে হবে।

 

জন্মের পর থেকে শুরু করে নাভি না শুকানো পর্যন্তু ( ৭ থেকে ১৪ দিন ) বাচ্চার নাভিতে তুলা দিয়ে টিংচার আয়োডিন বা জেনসণ ভায়োলেট লাগাতে হবে। যদি নাভি ফুলে পুজ জমে তাহলে অবশ্যই জীবানুনাশক ( যেমন - পটাশিয়াম ম্যাঙ্গানেট , স্যাভলন ২.৫% ইত্যাদি ) নির্দেশিত মাত্রায় ফুটানো ঠান্ডা পানিতে মিশিয়ে নাভি পরিস্কার করতে হবে।এছাড়া ক্ষত স্থানে দিনে ২ -৩ বার নেবানল পাউডার লাগাতে হবে। প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ অথবা ওষুধের নির্দেশিকা অনুসারে এন্টিবায়োটিক ইনজেকশন ( যেমন- প্রোনাপেন , পেনিসিলিন , পেনবাসিলিন , প্রোনাসিলিন ইত্যাদির যেকোনো একটি ) ৩ - ৫ দিন মাংসে প্রয়োগ করতে হবে। জন্মের ৪ ঘন্টার মধ্যে বাচ্চাকে মায়ের বাটে মুখ লাগিয়ে অবশ্যই শাল দুধ পান করাতে হবে।

কমপক্ষে ৩ দিন পর্যন্তু শালদুধ পান করানো আবশ্যক। শালদুধে পর্যাপ্ত পরিমানে রোগ প্রতিরোধী উপাদান থাকে। ঠিকমত শালদুধ না খাওয়ালে বাচ্চা বিভিন্ন রোগে সহজেই আক্রান্ত হতে পারে। এ ছাড়া বাচ্চা দুধ টেনে খেলে মা - গাড়লের গর্ভফুল ৮-১২ ঘন্টার মাঝে পরে যায়।

 

গাড়লের প্রজনন কালীন ও পরবর্তী স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনাঃ

গর্ভধারণের কিছু সমস্যার কারণে অনেক সময় গাড়লের বাচ্চা উত্পাদনের প্রত্যাশিত লক্ষ্য ব্যাহত হয়। সময়মতো গর্ভধারণ ও বাচ্চা উত্পাদনের সাথে লাভ - ক্ষতির সম্পর্ক রয়েছে। প্রসবের পর যেন পুনরায় সময়মতো গর্ভধারণ করে তা নিশ্চিত করতে হবে। দেখা যায় বাচ্চা প্রসবের দু - তিন মাস পরেও কিছু গাড়ল গর্ভধারণ করে না। অপুষ্টি , কৃমির আক্রমণ ও প্রজনন ব্যবস্থাপনায় ত্রুটি ,প্রসবের আগে ও পরে সুষম খাদ্য না খাওয়ানো , জননাঙ্গে সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়া , ইত্যাদি কারণে এমনটা হতে পারে। গাড়ল ডাকে আসলে সঠিক সময়ে প্রজনন করানো উচিত।

 

প্রসবের পর সমস্যা :

খুব সামান্য ক্ষেত্রে বাচ্চা প্রসবের পর কোনো কোনো গাড়লের জরায়ু বাইরে বেরিয়ে আসে। এ সমস্যা বাচ্চা প্রসবের ৪ - ৬ ঘন্টার মধ্যে দেখা যায়। প্রসবের সময় হ্যাচকা টান দিয়ে বাচ্চা বের করা হলে এমনটি হতে পারে। বয়স্ক গাড়লের ক্ষেত্রে এমনটি ঘটে বেশি। গর্ভের সময় ক্যালসিয়ামের অভাব থাকলেও এমন সমস্যার সৃষ্টি হয়। পরবর্তিতে মা - গাড়লের জরায়ুতে প্রদাহ দেখা দেয় এবং গর্ভধারণ বিলম্বিত হয়। এ ক্ষেত্রে , শরীরের তাপ পরীক্ষা করে তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকলে খুব ধীরে , সতর্কতার সাথে ৩০-৫০ মি.লি. ক্যালসিয়াম বরেগ্লুকনেট ,ক্যালডিম্যাক , কোপাক্যালসিয়াম , ক্যাজেসন , ক্যালসিনেট অথবা ক্যালসির যেকোনো একটি ইনজেকশন শিরায় প্রয়োগ করতে হবে। এর সাথে ১-২ আই .ইউ. অক্সিটোসিন (যেমন - অক্সিন , ইন্টাটোসিন-এস ,পিটন-এস অথবা হিন্টোসিনিনের যেকোনো একটি ) ইনজেকশন মাংসে ৩-৪ মিনিট পর পর ৪-৫ বার প্রয়োগ করতে হবে। প্রয়োজনে ভেটেরিনারি চিকিত্সকের পরামর্শ নিতে হবে।

 

গর্ভবতী গাড়লকে প্রতি কেজি খাবারের সাথে নির্দেশিত পরিমানে এমবাভিট ডিবি, ক্যালফসটনিক পাউডার , মিনোভিট সুপার ,বায়োমিক্স ডিবি, ভিটামিক্স ডিবি, রেনাভিট ডিবি, ডিবি ভিটামিন পাউডার , ইত্যাদির যেকোনো একটি মিশিয়ে খাওয়ানো হলে প্রসবকালীন বা প্রসবোত্তর জটিলতা থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। এছাড়া ভিটামিন এ ৮০০ আই. ইউ. এবং ভিটামিন ডি ২০০ আই. ইউ. প্রতি কেজি খাবারের সাথে নির্দেশিত মাত্রায় খাওয়ানো যায়।

 

রোগ ব্যাবস্থাপনাঃ

খামারের পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা, রোগ প্রতিরোধের প্রথম শর্ত। তাই খামারে সকল সময় পরিচ্ছন্ন, খোলামেলা ও পর্যাপ্ত আল-বাতাসের ব্যাবস্থা রাখতে হবে। গারলের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো। তবে বানিজ্যিক খামারে নিয়মিত টীকা প্রদান জরুরী। মোটামুটি নিয়মানুযায়ী ৩ টি টীকা প্রদান করলে, রগ-বালাই থেকে অনেকাংশে মুক্ত থাকা সম্ভব।

টীকার নাম--------------------পরিমান---------প্রয়োগ পদ্ধতি

পিপিআর---------------------- ১ মিলি---------চামড়ার নিচে ইনজেকশন

ক্ষুরা রোগ--------------------- ২ মিলি--------- ঐ

আন্থ্রাক্স ------------------------ ১ মিলি--------- ঐ

 

পি.পি.আর:- ভ্যাক্সিন দিন ভেড়া ও গাড়লের জন্য।

যারা বানিজ্যিক ভাবে অথবা শখের বসে ছাগল এবং ভেড়া পালন করেন আপনারা সবসময় আপনার মূল্যবান এবং শখের পশু গুলোকে কিছু প্রাণঘাতী ভাইরাস জনিত রোগ থেকে বাচিয়ে রাখতে চেষ্টা করবেন।

 রোগের কারণ:- মরবিলি ভাইরাস ।

রোগের লক্ষণ:-

***দূর্রগন্ধযুক্ত প্রবল ডাইরিয়া ও গর্ভবতী পশুর গর্ভপাত ঘটতে পারে ।

***নাক দিয়ে প্রচুর তরল পদার্থ নির্গত হয় এবং নাকের চারপাশে নির্গত তরল জমাট বেধেঁ কঠিন আবরনে পরিনিত হয় ।

***শ্বাশ-প্রশ্বাস নিতে প্রচুর কষ্ট হয় ।

*** খাবার গ্রহন বন্দ করে দেয় এবং জ্বর হয় ( তাপমাত্রা ১০৫*-১০৭* ফা:) পর্যন্ত হতে পারে ইত্যাদি ।

*** আক্রান্ত পশুর অল্পদিনের মধ্যেই মারা যায় এবং মৃত্যুর হার প্রায় ৯০% ।

এই রোগ থেকে পশুকে রক্ষা করতে হলে সবচাইতে ভাল উপায় হল টীকা দিয়ে প্রতিরোধ মূলক ব্যবস্থা করে রাখা ।

পিপিআর টীকা যে কোন উপজেলার পশু হাসপাতালে পাওয়া যায় ১০০ এম এল এর মূল্য ৫০ টাকা ।

*** টীকা আনার সময় অবশ্যই মেয়াদ দেখে নিবেন এবং বরফ দিয়ে বক্সেকরে আনবেন ।

***প্রতিটি পশুকে ১ এম এল করে চামড়ার নীচে প্রয়োগ করতে হবে ।

*** টীকা দেওয়ার ১৫ দিন পূর্বে কৃমি মুক্ত করে নিলে ভাল হবে ।

*** ২ মাস বয়স হলেই এই টীকা দিতে পারবেন এবং ৬ মাস পর পর দিলে ভাল হবে ।

***৪ মাসের বেশী গর্ভবতী এবং রুগ্ন পশুকে এই টীকা না দেওয়াই ভাল ।

*** মিশ্রত টীকা প্রয়োগের পর অবশিষ্ট যে টুকু থাকে তা সংগ্রহন করা যাবে না এটি ফেলে দিতে হবে ।

বি:দ্রি:- ছাগল এবং ভেড়াকে যে কোন টীকা প্রয়োগের পূর্বের ১৫ দিন এবং পরের ১৫ দিনের মধ্যে যেকোন উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন এন্টিবায়োটিক এবং অন্য কোন টীকা প্রয়োগ করা থেকে বিরত থাকবেন ।

 

বিভিন্ন রোগবালাই ও প্রাথমিক চিকিৎসা

১) তড়কা রোগ (উবামড়কি/গলি/ধড়কা/ তীরাজ্বর):

কারণ : গ্রাম পজেটিভ ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণে হয়। বর্ষাকালের স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে এ রোগ বেশি হয়। গরু, ছাগল, মহিষ ও ভেড়ার এ রোগ হয়।

লক্ষণ :

-দেহের লোম খাড়া হয়।

-দেহের তাপমাত্রা ১০৬-১০৭ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত হয়।

-দেহে কাঁপুনি ওঠে, শ্বাস-প্রশ্বাস দ্রুত ও গভীর হয়।

-নাক, মুখ ও মলদ্বার দিয়ে রক্তক্ষরণ হতে পারে।

-পাতলা ও কালো পায়খানা হয়।

-ঘাড়ের পিছনে চামড়ার নিচে তরল পদার্থ জমে ফুলে ওঠে

-ক্ষুধামন্দা, পেট ফাঁপা ও পেটের ব্যথা হয়।

-লক্ষণ প্রকাশের ১-৩ দিনের মধ্যে পশু ঢলে পড়ে এবং মারা যায়।

-মৃত্যুর সাথে সাথে পেটফুলে এবং রক্ত জমাট বাঁধে না।

প্রতিরোধ :

-প্রথম ৬ মাস বয়সে পশুকে টিকা দিতে হবে। পরে প্রতি বছর বয়সে একবার করে টিকা দিতে হবে

-সুস্খ পশুকে পৃথক রাখতে হবে।

-পশুর মল, রক্ত ও মৃতদেহ মাটির নিচে পুঁতে ফেলতে হবে

-পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন জীবাণুমুক্ত শুকনা স্খানে লালন- পালন করতে হবে।

চিকিৎসা :

-যেকোনো ধরনের অস্বাভাবিক আচরণ পশুর মধ্যে দেখলে উপজেলা পশু চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন।

 

২) খুরারোগ (বাতা, জ্বারা, তাপা, এসো, খুরাপাকা):

কারণ : পিকরনা নামক ভাইরাস দ্বারা এ রোগ হয়। জোড়া খুরবিশিষ্ট পশু যেমনন্ধ গরু, ছাগল, মহিষ, ভেড়া ইত্যাদিতে এ রোগ হয়। বর্ষার স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে এ রোগ বেশি হয়।

লক্ষণ :

-মুখে, জিহ্বায় ও খুরে ফোস্কা পড়ে

-ফোস্কা ফেটে ঘা হয়।

-নাক ও মুখ দিয়ে লালা ঝরে।

-পশু খুঁড়িয়ে হাঁটে

-পশু শক্ত কিছু খেতে পারে না।

-ওলানের বাঁটে ক্ষত ও দুর্গìধ হয় এবং কষ ঝরে

-ক্রমে পায়ের খুর খসে পড়ে।

-পশু দুর্বল হয়ে পড়ে।

-দেহের তাপমাত্রা বাড়ে

-গাভীর দুধ কমে যায়।

প্রতিরোধ :

প্রথম ৬ মাস বয়সে পশুকে টিকা দিতে হবে। পরে প্রতি বছর বয়সে একবার করে টিকা দিতে হবে

-সুস্খ পশুকে পৃথক রাখতে হবে।

-পশুর মল, রক্ত ও মৃতদেহ মাটির নিচে পুঁতে ফেলতে হবে।

চিকিৎসা :

-হালকা গরম পানির সাথে পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট মিশিয়ে ক্ষতস্খানে দৈনিক ২-৩ বার ধুয়ে দিতে হবে।

-সোহাগা (বোরাক্স) বা বরিক পাউডার মধু বা গ্লিসারিনের সাথে মিশিয়ে ক্ষতস্খানে লাগাতে হবে।

-যেকোনো ধরনের অস্বাভাবিক আচরণ পশুর মধ্যে দেখলে উপজেলা পশু চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন।

-নারকেল তেল ও তারপিন তেল ৪:১ অনুপাতে মিশিয়ে

ক্ষতে লাগাতে হবে।

-পশুকে নরম খাদ্য খাওয়াতে হবে।

সাবধানতা:

-কাদামাটি বা পানিতে পশুকে রাখা যাবে না।

-খোসকা পাতা দিয়ে ক্ষতস্খান ঘষা যাবে না।

৩) বাদলা রোগ (কালো, জহরত, সুজওরা, কৃষজঙ্গ রোগ):

লক্ষণ : -পশুর দেহের মাংসপেশি ফুলে যায় এবং গায়ের চামড়া খসখসে হয়।

-ফোলা স্খানে গরম অনুভূত হয় এবং হাত দিলে চটচট শব্দ হয়।

-ফোলা স্খানে পচন ধরে এবং পশু মারাও যেতে পারে

-দেহের তাপমাত্রা ১০৫-১০৭ ডিগ্রি ফারেনহাইট বাড়ে।

-কখনো পশুর পেট ফাঁপে এবং পশু খোঁড়াতে থাকে।

-খাওয়া ও জাবর কাটা বìধ হয় এবং হৃদস্পন্দন বেড়ে যায়।

-দেহের পশম খাড়া হয়। পশু নিস্তেজ হয়ে পড়ে।

-আক্রান্ত স্খানে কাটলে গাঢ় লাল দুর্গìধযুক্ত ফেনা বের হয়।


৪)ওলান ফোলা/প্রদাহ রোগ (ওলান পাকা, ঠুনকো ইত্যাদি):

লক্ষণ :

-ওলান লাল হয়ে ফুলে যায়।

-ওলান শক্ত ও গরম হয় এবং ওলানে ব্যথা হয়।

-দুধ ছানার মতো ছাকা ছাকা হয়।

-দুধের সাথে রক্ত বের হতে পারে।

-ওলান ও বাঁট নষ্ট হয়ে গাভীর দুধ বìধ হয়ে যায়।

-দুধ উৎপাদন বìধ হয়।

প্রতিরোধ :

-পশু শুকনো ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন স্খানে লালন-পালন করতে হবে।

-ওলান সর্বদা পরিষ্কার রাখতে হবে।

-হাত জীবাণুনাশক দিয়ে ধুয়ে দুধ দোহন করতে হবে।

-ওলান গরম হলে ঠাণ্ডা বা ঠাণ্ডা হলে গরম সেক দিতে হবে।

চিকিৎসা :

যেকোনো ধরনের অস্বাভাবিক আচরণ পশুর মধ্যে দেখলে উপজেলা পশু চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন।

৫) ডায়রিয়া/পাতলা পায়খানা/উদরাময় রোগ: কারণ :

ব্যাকটেরিয়া ও প্রোটোজোয়া জাতীয় জীবাণু দ্বারা হয়। বর্ষার সময় দূষিত খড়, পচা লতাপাতা, পচা পানি, পচা খাদ্য খেয়ে এ রোগ হয়।

লক্ষণ :

-ঘন ঘন পাতলা পায়খানা হয়।

-মুখ দিয়ে লালা ঝরে।

-মলের সাথে রক্ত বের হয়।

-পেটের ডান দিকে চাপ দিলে পশু ব্যথা পায়।

প্রতিরোধ :

-পরিষ্কার টাটকা খাদ্য খাওয়াতে হবে।

-বাচ্চা জন্মের পরই ২% আয়োডিন দিয়ে নাভি মুছে দিতে হবে।

-জন্মের পর ২ ঘন্টার মধ্যে কলস্ট্রাম সিরাপ খাওয়াতে হবে।

-জীবাণুমুক্ত বিশুদ্ধ পানি খাওয়াতে হবে।


৬) নিউমোনিয়া:

কারণ : বিভিন্ন জীবাণুর (ব্যাকটেরিয়া, রিকেটশিয়া, ভাইরাস) সাথে এলার্জেন, আঘাত, ক্লান্তি, ঠাণ্ডা লাগা, বৃষ্টিতে ভেজা, স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ, আর্দ্র আবহাওয়া ইত্যাদি কারণে এ রোগ হয়।

লক্ষণ :

-আক্রান্ত পশুতে প্রথমে অল্প জ্বর ও কাশি এবং পরে ঘনঘন কাশি দেয়।

-নাক ও মুখ দিয়ে সাদা সর্দি বের হয়।

-দ্রুত ও গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস, কাশি ও শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়।

-শ্বাস-প্রশ্বাসের সময় শব্দ হয়।

প্রতিরোধ :

-বৃষ্টি, ঠাণ্ডা, আর্দ্র ও স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে পশু রাখা যাবে না। শুকনো ও গরম স্খানে রাখতে হবে।

চিকিৎসা :

 যেকোনো ধরনের অস্বাভাবিক আচরণ পশুর মধ্যে দেখলে উপজেলা পশু চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন।

বি.দ্র. উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিসে পশু ডাক্তারদের সাথে পরামর্শ করে ঔষধ প্রয়োগ করিবেন। ধন্যবাদ


Comments